পারিবারিক আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহিলা। ২০১১ সাল থেকে আমেরিকায় থাকছেন তিনি। মাসে আট লক্ষ টাকা রোজগার করেন, যা স্বামীর আয়ের চেয়ে বেশি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

স্বামীর চেয়ে রোজগার বেশি হওয়ায় স্ত্রীর মাসিক ভরণপোষণের আবেদন খারিজ করে দিল বম্বে হাই কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে স্বামীর চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই তাকে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য করা যাবে না।আনন্দবাজার ডট কম

মামলাকারী মহিলা আমেরিকার নিউ জার্সিতে থাকেন। তিনি এবং তার স্বামী, উভয়েই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত। আমেরিকায় মহিলার মাসিক আয় আট লক্ষ টাকা (৮,৭০০ মার্কিন ডলার), যা তার স্বামীর চেয়ে বেশি। তাদের দুই সন্তানের মধ্যে এক জন বাবার কাছে এবং এক জন মায়ের কাছে থাকে। বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় ওই মহিলা অন্তর্বর্তী ভরণপোষণ বাবদ স্বামীর থেকে মাসিক এক লক্ষ টাকা দাবি করেন। প্রথমে মামলা হয় পারিবারিক আদালতে। সেখানেও তার ভরণপোষণের দাবি খারিজ হয়ে যায়।

পারিবারিক আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই মহিলা। ২০১১ সাল থেকে আমেরিকায় থাকছেন তিনি। জানিয়েছিলেন, আমেরিকায় জীবন যাপনের খরচ অনেক বেশি। সেই কারণে তার ভরণপোষণ প্রয়োজন। বম্বে হাই কোর্টের বিচারপতি ভারতী ডাংরে এবং বিচারপতি মঞ্জুষা দেশপান্ডের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বিদেশের ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা কখনও অন্তর্বর্তী খোরপোশের ভিত্তি হতে পারে না। তা ছাড়া, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। চাকরিতেও অনেক কাটছাঁট হচ্ছে। স্বামীর চাকরিও তাই ঝুঁকির মুখে। ফলে তাকে মাসিক ভরণপোষণের জন্য বাধ্য করা যাবে না।

এর আগে পারিবারিক আদালতে ধাক্কা খেলেও মহিলার মামলার খরচ তার স্বামীকে দিতে বলেছিলেন বিচারক। বলা হয়েছিল, মাসিক খোরপোশ বাবদ কোনও অর্থ দিতে হবে না স্বামীকে। তবে স্ত্রী আইনি প্রক্রিয়ার খরচ বাবদ ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। সেই রায়ে সন্তুষ্ট না হওয়ায় মহিলা উচ্চ আদালতে যান। সেখানেও তার আবেদন খারিজ হয়ে গেল।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *