শনিবার দুপুরে বক্সিংয়ে জোড়া সোনা জিতেছিল ভারত। বিকেলে ভারতের বক্সারেরা একের পর এক সোনা জিততে শুরু করেন। পর পর সোনা জেতেন সাক্ষী চৌধরি, প্রিয়া ঘাঙ্ঘাস এবং অরুন্ধতী চৌধরি। তবে হেরে যান লভলিনা বরগোঁহাই।

স্পোর্টস ডেস্ক :

শনিবার দুপুরের দিকে বক্সিং থেকে জোড়া সোনা এসেছিল ভারতের ঘরে। প্রীতি পওয়ার এবং জৈস্মিন লম্বোরিয়া সোনা জিতেছিলেন। তবে হেরে গিয়েছিলেন জাদুমণি সিংহ। বিকেলের দিকে ভারতের বক্সারেরা একের পর এক সোনা জিততে শুরু করেন। পর পর সোনা জেতেন সাক্ষী চৌধরি, প্রিয়া ঘাঙ্ঘাস এবং অরুন্ধতী চৌধরি। তবে হেরে যান লভলিনা বরগোঁহাই। পরে সচিন সিবচ ৬০ কেজি বিভাগে সোনা জেতেন। ৮০ কেজিতে সোনা জিতেছেন অঙ্কুশ পানঘাল। দিনের শেষ লড়াইয়ে হেরে গিয়ে রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে নরেন্দ্রকে। এই মুহূর্তে ভারতের ঘরে এসেছে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৮টি ব্রোঞ্জ। পদক তালিকায় তারা আছে চতুর্থ স্থানে।আনন্দবাজার ডট কম

প্রথমে নেমেছিলেন সাক্ষী চৌধরি। ৫১ কেজি বিভাগে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন রুবি হোয়াইট। প্রথম রাউন্ডে সহজেই জেতেন সাক্ষী। শটের বৈচিত্র এবং প্রতিপক্ষের দুর্বলতা কাজে লাগান তিনি। অসাধারণ কিছু ‘জ্যাব’ দেখা যায় তার থেকে। সাক্ষীকে আটকানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি রুবি। দ্বিতীয় রাউন্ডে ৪-১ পয়েন্টে জেতেন সাক্ষী। শটে বৈচিত্র এনে রাউন্ড জেতেন তিনি। শেষ রাউন্ডেও জিতে সোনা নিশ্চিত করেন সাক্ষী।

এর পরেই নেমেছিলেন তার খুড়তুতো বোন প্রিয়া ঘাঙ্ঘাস। তার প্রতিপক্ষ ছিলেন কানাডার মারি আল-আহমাদিয়ে। অনেক আগে থেকেই স্টেডিয়ামে গর্জে উঠেছিল ‘প্রিয়া, প্রিয়া’ চিৎকারে। তবে ৬০ কেজি বিভাগে প্রথম রাউন্ডে প্রিয়া হেরে যান ২-৩ পয়েন্টে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ঘুরে দাঁড়ান। সেটি জেতেন ৪-১ পয়েন্ট। তৃতীয় রাউন্ডেও মারিকে দাঁড়াতে দেননি প্রিয়া। জিতে সোনা নিশ্চিত করেন। প্রিয়ার জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই বক্সিংয়ে চতুর্থ সোনা নিশ্চিত হয়, যা কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের নজির।

এর পর নামেন অরুন্ধতী চৌধরি। তিনিও সোনা জেতেন। ৭০ কেজি বিভাগে অরুন্ধতী প্রথম রাউন্ডে ইংল্যান্ডে শ্যান্টেলে রেডকে হারান ৪-১ ফলে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় রাউন্ডেও জিতে ভারতের পঞ্চম সোনা নিশ্চিত করেন।

ভারতের অনেক আশা ছিল লভলিনা বরগোঁহাইকে ঘিরে। বক্সারদের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞও ছিলেন তিনি। কিন্তু ৭০ কেজি বিভাগে অস্ট্রেলিয়ার এমা সু গ্রিনট্রির বিরুদ্ধে প্রথম রাউন্ডে হেরে যান। এমার পায়ের নড়াচড়া খুবই ভাল ছিল। বার বার অবস্থান বদল করে এবং ঘুষি মেরে লভলিনাকে চাপে ফেলে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে ঘুরে দাঁড়ান লভলিনা। জেতেন ৪-১ ব্যবধানে। কিন্তু তৃতীয় রাউন্ডে দাঁড়াতেই পারেননি। অস্ট্রেলীয় প্রতিপক্ষের একের পর এক ঘুষি এবং জ্যাবকে বিভ্রান্ত হয়ে যান তিনি। খেলা শেষ হওয়ার পরেই বোঝা গিয়েছিল লভলিনা হারতে চলেছেন। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়। ১-৪ পয়েন্টে হেরে যান লভলিনা।

তার আগে, ৫৪ কেজি বিভাগের ফাইনালে প্রীতি হারিয়েছেন কানাজা স্কারলেট সাভানা ডেলগাডোকে। তার পরেই খেলতে নেমেছিলেন জৈস্মিন। তিনি ৫৭ কেজির ফাইনালে হারান উত্তর আয়ারল্যান্ডের মিকায়েলা ওয়ালশকে।

প্রীতি নেমেছিলেন নীল জার্সি পরে। শুরু থেকেই প্রীতিকে লক্ষ্য করে ঘুষির বন্যা বইয়ে দেন ডেলগাডো। প্রীতি শক্তিশালী ব্যাকহ্যান্ডের সাহায্যে ম্যাচে ফেরেন। এর পর আপার হ্যান্ড ব্যবহার করে বিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন। প্রথম দুই রাউন্ডে সব বিচারকই প্রীতিকে ১০ পয়েন্ট দেন। তৃতীয় রাউন্ডে প্রীতির শরীর লক্ষ্য করে ঘুষি মারছিলেন ডেলগাডো। তবে প্রীতির পায়ের নড়াচড়া তাকে সুবিধা পাইয়ে দেয়। তিনি ৫-০ পয়েন্টে জিতে সোনা পকেটে পোরেন।

জৈস্মিনও ৫-০ পয়েন্টে হারিয়েছেন ওয়ালশকে। ঘটনাচক্রে ওয়ালশ ২০২২-এ সোনা এবং তার আগের দু’টি কমনওয়েলথ গেমসে রুপো পেয়েছিলেন। এ দিন জৈস্মিনের সামনে দাঁড়াতে পারেননি তিনি।

এ দিকে, ট্রিপল জাম্পে ভারত রুপো এবং ব্রোঞ্জ জিতেছে। রুপো পেয়েছেন প্রবীণ চিত্রাভেল। তিনি ১৬.৫৮ মিটার লাফিয়েছেন। অন্য দিকে, ১৬.৫২ লাফিয়ে ব্রোঞ্জ সেলভা প্রভুর।

প্যারা স্পোর্টসেও এসেছে পদক। এফ৫৭ শটপাট বিভাগে সোনা জেতেন ভারতের সোমন রানা। তিনি ১৩.৪০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছেন। ১৩.২৮ মিটার ছুড়ে রুপো পান শুভম জুয়াল।

জুডোয় উন্নতি শর্মা ব্রোঞ্জ জিতেছেন। তিনি হারান দক্ষিণ আফ্রিকার স্কাই নোস্টারকে। এই নিয়ে জুডোয় চারটি পদক হল ভারতের। সোনা জিতেছেন হর্ষ সিংহ এবং অস্মিতা দে। যামিনী মৌর্য রুপো পেয়েছেন। রবিবার আরও তিনটি পদক পেতে পারে ভারত। ইশরুপ নারাং, অবতার সিংহ এবং যশ ঘাঙ্ঘাস দৌড়ে রয়েছেন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *