গলার কাছে পেশিতে চরম প্রদাহ, মনে হচ্ছে কেউ যেন চিমটি কাটছে। স্নায়ুর রোগে আক্রান্ত হয়েছেন সোনু নিগম। ঠিক কোন ধরনের রোগ তার হয়েছে, সে নিয়ে বিশদে না বললেও সোনু জানিয়েছেন তিনি ‘পিঞ্চড নার্ভ’-এর সমস্যায় ভুগছিলেন। কী এই সমস্যা?

বিনোদন ডেস্ক :

অসুস্থতার সঙ্গে লড়ছিলেন দীর্ঘদিন ধরেই। অস্ত্রোপচার কক্ষে রফির গান গাইতেও শোনা গিয়েছে সোনু নিগমকে। সে ভিডিয়ো এখন সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। সোনুর অসুস্থতা নিয়ে চিন্তিত তার অনুরাগীরাও। সোনুর কী সমস্যা হয়েছে সে নিয়ে বিশদে কিছু জানাননি তিনি। তবে বলেছেন, গলার চারপাশে অসম্ভব ব্যথা, জ্বালাপোড়ার মতো অনুভূতি হত তার। সোনুর কথায় তিনি ‘পিঞ্চড নার্ভ’-এর সমস্যায় ভুগছিলেন। মনে হত, স্নায়ুতে যেন কেউ চিমটি কাটছে।আনন্দবাজার ডট কম

পিঞ্চড নার্ভ কী ধরনের রোগ?

এমআরআই ও সিটি স্ক্যান করে সোনুর সমস্যা চিহ্নিত করেন চিকিৎসকরা। ‘পিঞ্চড নার্ভ’ কোনও একটি নির্দিষ্ট রোগের নাম নয়। অনেকগুলি লক্ষণকে একত্রে এই নামে ডাকা হয়ে থাকে। এটি এমন এক অবস্থা যখন স্নায়ুর উপর কোনও কারণে চাপ বাড়তে থাকে। সেই এলাকার স্নায়ুর চারপাশের হাড়, পেশি, কোষ-কলাতে খিঁচুনি শুরু হয়। সেখানে মারাত্মক প্রদাহ হয়, জ্বালাপোড়া হওয়ার মতো অনুভূতি হতে থাকে। এতে মনে হয়, সেই জায়গায় যেন কেউ ধারালো কিছু বিদ্ধ করছে বা চিমটি কাটছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন অবস্থাকে ‘নার্ভ কম্প্রেশন’ বা ‘কম্প্রেসিভ নিউরোপ্যাথি’ বলা হয়। মেরুদণ্ডের কাছাকাছি স্নায়ুর উপর চাপ বাড়লে বা সেখানে প্রদাহ হলে সেই অবস্থাকে বলে ‘রেডিকিউলোপ্যাথি’। আবার ঘাড় বা গলার কাছে স্নায়ুতে প্রদাহ হলে বা জ্বালাযন্ত্রণা হলে সেই অবস্থাকে বলে ‘সার্ভাইক্যাল রেডিকিউলোপ্যাথি’। সোনু জানিয়েছেন, তার গলার চারপাশে এমন প্রদাহ হত। সে জন্য নানা রকম ওষুধ খেতে হয় তাকে, যন্ত্রণাদায়ক ফিজিয়োথেরাপির মধ্যে দিয়েও যেতে হয়।

‘পিঞ্চড নার্ভ’ বা ‘নার্ভ কমপ্রেশন’ হলে পেশির অসাড়তা বাড়ে। এটি সাধারণত ঘাড়, পিঠ ও কব্জিতে বেশি হয়। এই বিষয়ে জনস হপকিন্স মেডিসিনের একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, স্নায়ুর উপর অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক নানা কারণে চাপ তৈরি হতে পারে। মেরুদণ্ডের কশেরুকার মাঝখানে থাকা নরম জেলি-সদৃশ ডিস্ক বাইরে বেরিয়ে এসে স্নায়ুতে তীব্র চাপ দিতে পারে। আবার হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার কারণেও এমন হতে পারে। একটানা কম্পিউটারে টাইপ করা, ঝুঁকে মোবাইল ব্যবহার করা বা একই ভঙ্গিতে দীর্ঘসময়ে বসে থেকে বাদ্যযন্ত্র বাজানো কিংবা গান গাওয়া— এ সব কারণেও রোগটি হতে পারে। তবে এই ধরনের ব্যথা বা প্রদাহ দীর্ঘস্থায়ী নয়। ওষুধ বা থেরাপিতেই তা সেরে যায়। যদি প্রদাহ তীব্র হয়, তা হলে কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার করার প্রয়োজন হতে পারে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *