নিজস্ব প্রতিবেদক বাংলাদেশে এয়ার কন্ডিশনার শিল্পের বিকাশে স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে সরকার কাস্টমস শুল্ক ও ভ্যাটে বিভিন্ন নীতি-সহায়তা প্রদান করে আসছে। এসব নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলা, প্রযুক্তি স্থানান্তর নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আমদানি নির্ভরতা কমানো। বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য ও কাস্টমস আমদানি তথ্য (Customs Import Data) বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অভিযোগ উঠেছে যে, এ নীতির সুযোগ নিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদনের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই সরকারি সুবিধা ভোগ করছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেড। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট এসআরও অনুযায়ী নীতি-সুবিধা গ্রহণকারী একটি এয়ার কন্ডিশনার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্টের মধ্যে যে কোনো তিনটি দেশে উৎপাদন করতে হবে। এসব কম্পোনেন্টের মধ্যে রয়েছে— Indoor Unit Outdoor Unit Evaporator Condenser Suction & Discharge Pipe এছাড়াও, শুধু উৎপাদনের ঘোষণা দিলেই হবে না; সংশ্লিষ্ট কম্পোনেন্ট উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, উৎপাদন লাইন এবং প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের থাকতে হবে—এমন শর্তও নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে কাস্টমস আমদানি তথ্য বিশ্লেষণে অভিযোগ উঠেছে যে, হায়ার বাংলাদেশ উল্লিখিত কম্পোনেন্টগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত (Finished/Complete) অবস্থায় বিদেশ থেকে আমদানি করছে। যদি তদন্তে এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে তা কাস্টমস এসআরও-এর শর্ত লঙ্ঘন এবং সরকারি শিল্পনীতি ও রাজস্ব-সুবিধার অপব্যবহারের শামিল হতে পারে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ কাস্টমস শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। একই সঙ্গে যে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত অর্থে দেশে যন্ত্রাংশ উৎপাদনের জন্য বিপুল বিনিয়োগ করেছে, আধুনিক উৎপাদন লাইন স্থাপন করেছে এবং নীতিমালার শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করছে, তারা বাজারে অসাম্য প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের শিল্পনীতি স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য প্রণীত হলেও, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান উৎপাদনের পরিবর্তে সম্পূর্ণ প্রস্তুত যন্ত্রাংশ আমদানি করেই একই নীতি-সুবিধা ভোগ করে, তাহলে প্রকৃত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্যও ব্যাহত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে শিল্পসংশ্লিষ্টরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর প্রতি বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাস্টমস আমদানি তথ্য, বিল অব এন্ট্রি, উৎপাদন সক্ষমতা, উৎপাদন লাইন, কারখানার বাস্তব কার্যক্রম এবং সরকারি নীতি-সুবিধা গ্রহণের শর্তসমূহ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক। তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে প্রচলিত কাস্টমস আইন, ভ্যাট আইন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পনীতির আলোকে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি নীতি-সহায়তার অপব্যবহার রোধে আরও কার্যকর নজরদারি ও নিরীক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের রাজস্ব সুরক্ষা, দেশীয় উৎপাদনভিত্তিক শিল্পায়ন এবং বাজারে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সময়ের দাবি। Post Views: 10 Post navigation আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর আবহাওয়ার সতর্কবার্তাসমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর সর্তক সংকেত দেখানোর নির্দেশ