রাজশাহী :বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রেশম খাতকে আধুনিক, উৎপাদনশীল ও পরিবেশবান্ধব শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে গবেষণা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় সহযোগিতা আরো জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম।আজ রাজশাহীতে বাংলাদেশ রেশম বোর্ড ও চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘Conference on Sericulture Research and Development in the Context of Strategic Cooperation between China and Bangladesh’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি চীন-বাংলাদেশ সিল্ক রিসার্চ সেন্টার (CBSRC)-এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেশম বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। বিশেষ করে রাজশাহী ঐতিহাসিকভাবে ‘সিল্ক সিটি’ হিসেবে পরিচিত। রেশম খাত গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো তুঁত চাষ, রেশম পোকা উৎপাদন, গুটি উৎপাদন, রেশম সুতা তৈরি, বয়ন, পণ্য উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণসহ রেশমের সম্পূর্ণ মূল্য শৃঙ্খলাকে আধুনিক, উৎপাদনশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলা।মোঃ শরীফুল আলম বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের রেশম গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও শিল্প উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চীনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের রেশম উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে। তিনি বলেন, উচ্চ ফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল তুঁত জাত, উন্নত রেশম পোকা জাত, রোগ ও পোকা ব্যবস্থাপনা, আধুনিক রেশম সুতা উৎপাদন, গুণগত মান পরীক্ষা এবং মূল্য সংযোজনমূলক রেশম পণ্য উৎপাদনে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেশম খাতে গবেষক, কৃষক, উদ্যোক্তা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন প্রয়োজন, যাতে গবেষণার ফল মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা যায় এবং বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি হয়। একইসঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে রেশম শিল্পকে আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাজশাহী সিল্ক ইতোমধ্যে ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। এর গুণগত মান, পণ্যের বৈচিত্র্য, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির ভাইস ডিন ও অধ্যাপক শু কিউজি বলেন, রেশম শিল্পের উন্নয়নে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সিল্ক রেশম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রেশম খাতের টেকসই উন্নয়নে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, চীনে রেশম উৎপাদন, প্রযুক্তি উন্নয়ন, স্মার্ট রিলিং, রেশম পণ্যের মান নির্ধারণ এবং নতুন ব্যবহার নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের মাধ্যমে রেশম খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব।অনুষ্ঠানে রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মোঃ তৌফিক আল মাহমুদ, চীন-বাংলাদেশ সিল্ক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক নুসরত জাহান নিপা, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।-ত.বি. Post Views: 4 Post navigation নারীদের নিরাপদ যাতায়াত রাষ্ট্রের দায়িত্ব–শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশের স্বাস্থ্যপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতেফার্মা গ্রেড ওয়্যারহাউজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী