প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৫) লক্ষ্য অর্জনে যে বিষয়গুলোতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তার মধ্যে রয়েছে—সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতার রূপরেখা প্রণয়ন; শিশুদের মৌলিক সাক্ষরতার উন্নয়ন; প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও ডিজিটাল শিক্ষায় সহায়তা দেওয়া; দুর্গম এলাকায় শিক্ষা সেবা জোরদার করা; এনজিওদের অভিজ্ঞতা ও তথ্যগুলো জাতীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দুর্যোগ প্রস্তুতি, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ওয়াশ কার্যক্রম শক্তিশালী করা।

প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। পিইডিপি-৫-এর আওতায় ২০২৬–২০৩১ সাল পর্যন্ত সময়কালের জন্য এসব কৌশলগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়।

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার মিলনায়তনে ‘পিইডিপি-৫-এর আওতায় প্রাথমিক শিক্ষার রূপান্তরের জন্য অংশীদারত্ব ও সমন্বয় জোরদারে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা’ শীর্ষক সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) ও ব্র্যাক যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ও ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) বোর্ডের চেয়ারম্যান ফরিদ আহ্‌মদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পিইডিপি-৪) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধের ওপর প্রশ্নোত্তর পর্বটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি, কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এনগেইজমেন্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কে এ এম মোর্শেদ। এ ছাড়া ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিবাসন বিভাগের পরিচালক সাফি রহমান খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এনজিও এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে শক্তিশালী সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি পিইডিপি-৫-এর আওতায় যৌথভাবে কাজ করার জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র চিহ্নিত করেন, কারিকুলাম, শিক্ষক, প্রশাসন, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই অগ্রাধিকারগুলোর লক্ষ্যপূরণ করা হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও এখনো সব শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়নি। শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনজিও অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এনজিওগুলো দ্রুত ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে সহজেই পৌঁছতে পারে। এটি সরকারের বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন আনতে এমন উদ্যোগ দরকার, যা বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করা যাবে এবং দীর্ঘদিন টেকসই থাকবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা সেবার বিস্তারে এনজিওগুলো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এ ছাড়া নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নে এনজিওগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহ্‌মদ বলেন, সরকার ও এনজিওর মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা শিক্ষাখাতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করছে। তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার উন্নয়নে এনজিওগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে আসছে। তবে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে কতটা প্রভাব ফেলতে পারছে, তার ওপরই এর সাফল্য নির্ভর করে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম বলেন, প্রত্যেক অভিভাবকের আশা থাকে তাদের সন্তান সফলভাবে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাধ্যমিক স্তরে প্রবশে করবে। প্রতিটি শিশুর জন্য উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সব অংশীজনের অব্যাহত সহযোগিতার বিকল্প নেই।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট সৈয়দ রাশেদ আল-জায়েদ এবং ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন-এর উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান অনুষ্ঠানে তাদের মতামত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর (পিইডিপি-৪) মো. আতাউর রহমান। ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রোগ্রাম হেড মো. মোয়াজ্জেম হোসেন পরিকল্পনা ও ঐকমত্য গঠন বিষয়ক একটি সেশন সঞ্চালনা করেন।

মুক্ত আলোচনা পর্বে ঢাকা আহছানিয়া মিশন, বি-স্ক্যান, এডুকো বাংলাদেশ, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন, সেভ দ্য চিলড্রেন ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *