ইন্দ্রনীল মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে তার এবং তার মালিকানাধীন সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে মোট ৩.৮ কোটি টাকা জমা পড়েছিল, জানিয়েছে ইডি। পরে সেখান থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে টাকা যায়। আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩০ লক্ষ টাকা দেয়া হয়েছিল। ‘মাস আর্ট’ তদন্তে এমনটাই দাবি করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ‘মাস আর্ট’ নামের সংস্থা তৈরি করে দুর্গাপুজোর ‘ভুয়ো’ পাস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। তার বাড়ি, দফতরে তল্লাশি অভিযানের পর বুধবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করে ইডি। আগামী সপ্তাহে ফের তাকে তলব করা হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানেই এসেছে মমতার প্রসঙ্গ। ইডির দাবি, ইন্দ্রনীল মন্ত্রী থাকাকালীন তার এবং তার মালিকানাধীন সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে মোট ৩.৮ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। পরে সেই সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতার অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা স্থানান্তর করা হয়। এ বিষয়ে ইন্দ্রনীলকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, ‘রয়্যালটি’ বাবদ ওই টাকা মমতাকে দেয়া হয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলকে আবার তলব ইডির, পুজোর পাসে দুর্নীতি? আগামী সপ্তাহে ফের জিজ্ঞাসাবাদ সিজিও-তেতদন্তে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে আরও অনিয়মের খোঁজ পাওয়া গেছে, দাবি ইডি-র। অভিযোগ, তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের ৮৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক টেন্ডার ধ্রুবজ্যোতি বোস এবং দীপেশ রায়ের মালিকানাধীন সংস্থাগুলিকে দেয়া হয়েছিল। দু’জনেই ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এই সংস্থাগুলির অ্যাকাউন্ট থেকে পরে আবার ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের বিভিন্ন সংস্থায় বিপুল পরিমাণ টাকা পাঠানো হয়। সব লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী গত ২৯ সেপ্টেম্বর কলকাতার ১৫টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। তার মধ্যে ইন্দ্রনীল এবং তার ঘনিষ্ঠদের বাড়ি, অফিসও ছিল। অভিযোগ, ‘মাস আর্ট’ সংস্থা দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ পরিচালনা করতে গিয়ে একাধিক আর্থিক অনিয়ম করেছে। ইন্দ্রনীল, তার স্ত্রী মধুছন্দা সেন (সংস্থার সভাপতি), ধ্রুবজ্যোতি বসু (সংস্থার সম্পাদক), সায়ন্তন মৈত্র (সংস্থার সহ-সভাপতি), রঞ্জন চট্টোপাধ্যায় (সংস্থার কোষাধ্যক্ষ) ও অন্যরা নিজেদের ইউনেস্কো অনুমোদিত সংস্থা হিসেবে দাবি করে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। পরে সেই টাকা ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজে লাগান। সুপরিকল্পিত ভাবে দুর্গাপুজোর বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছিল, দাবি ইডি-র। উৎসবকে পরিণত করা হয়েছিল লাভজনক ব্যবসায়। কী করত ‘মাস আর্ট’? ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পরপরই এই সংস্থা গড়ে উঠেছিল। ইডি-র দাবি, কলকাতার নির্বাচিত ২৪টি পুজো প্যান্ডেল পরিদর্শন করানোর জন্য সংস্থাটি টিকিট বিক্রি করত। টিকিটের দাম ছিল ১৭৪৯ থেকে ৫৪৯৯ টাকা পর্যন্ত। অভিযোগ, আদৌ ওই সংস্থার সঙ্গে ইউনেস্কোর কোনও যোগ ছিল না। ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে লোক ঠকানো হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, শুধু ২০২৩ এবং ২০২৪ সালেই এক লক্ষেরও বেশি টিকিট বিক্রি করেছে ‘মাস আর্ট’। সেই টাকা পরে আত্মসাৎ করেছেন ইন্দ্রনীলরা। প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বৌবাজার থানায় অনিয়মের অভিযোগটি করেন জনৈক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। আর্থিক তছরুপের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখছে ইডি। Post Views: 28 Post navigation দিল্লির একজন পুরুষের দেহে গর্ভাশয় কীভাবে?