সুপ্রিম কোর্টে নালিশ কপিলের১০ অক্টোবরের জ্ঞানেশবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে রণক্ষেত্রের প্রস্তুতি দিল্লিতে। ট্রেন বাতিল, মেট্রো রুট বন্ধ, তৈরি ডিটেনশন ক্যাম্প, হোটেল বুকিংয়ে নিষেধাজ্ঞা—আন্দোলনকারীদের রুখতে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের। আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে একাধিক রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন। কিন্তু অভিযোগ, এই আন্দোলন শুরু হওয়ার আগেই তা ভেস্তে দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা আন্দোলনকারীদের দিল্লিতে পৌঁছোনো আটকাতে রেল, পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। ১০ অক্টোবরের কর্মসূচির জন্য যে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টির তরফে, সেই অনুমতিও দেয়নি দিল্লি পুলিশ।আনন্দবাজার ডট কমসবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে রেল পরিষেবায়। হাওড়া এবং শিয়ালদহ থেকে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে বলে খবর। কেবল বাংলাই নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও নিউ দিল্লি এবং হজরত নিজ়ামুদ্দিনগামী বহু দূরপাল্লার মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাপথবদল ও কিছু ক্ষেত্রে বাতিল করা হচ্ছে। প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীদের বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠছে। মধ্যপ্রদেশের ইটারসী জংশনে ১২৭৭৯ গোয়া এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেন থামিয়ে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ) এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মিদের জোর করে ট্রেন থেকে নামিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। ট্রেন চলাচলে এই ধরনের আচমকা বিধিনিষেধের ফলে সাধারণ যাত্রীরাও দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আইনজীবী কপিল সিব্বল, ড. অভিষেক মনু সিংঘবী, গোপাল শঙ্করনারায়ণন ও বৃন্দা গ্রোবর। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়ে কপিল সিব্বল ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, ‘‘আমার দেশে এ সব কী ঘটছে?’’ আদালতে আইনজীবী সিংঘবী কেন্দ্রীয় সরকারের নেয়া একাধিক পদক্ষেপের তালিকা পেশ করেন। রাজধানীতে বিক্ষোভ রুখতে ২২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের আটক করে রাখতে অন্তত ১০টি অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার তৈরি রাখা হয়েছে। দিল্লির প্রায় ৫৭টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখার আর্জি জানানো হয়েছে। দিল্লির স্থানীয় হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলিকে নতুন করে কোনও অতিথিকে ঘর না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আন্দোলনের ভিডিয়ো তোলা বা প্রচার চালানোর ক্ষেত্রে ইউটিউবারদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সাংবাদিকদের আইডি কার্ড সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের তরফে সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচির আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়েছে। সাউথ ব্লকের যৌথ পুলিশ কমিশনার নূপুর প্রসাদ জানান, নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করার কথা থাকলেও, মাত্র ৩ দিন আগে (৭ অক্টোবর) আবেদন জমা পড়েছিল। তা ছাড়া অতীতে আন্দোলনকারীরা নিয়ম অমান্য করায় এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এই অনুমতি দেয়া হয়নি। এমনকি সাধারণ মানুষকে এই বিক্ষোভে যোগ না দেয়ার পরামর্শ দিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে পুলিশ। তবে ছাত্র-যুব সংগঠনগুলির দাবি, প্রশাসনিক দমনপীড়ন চালিয়ে এই প্রতিবাদ চেপে দেয়া যাবে না। সব বাধা পেরিয়েও হাজার হাজার মানুষ ১০ অক্টোবর দিল্লির বুকে তাদের দাবি তুলে ধরবেন। Post Views: 32 Post navigation জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে যাচ্ছে ‘ইন্ডিয়া’, সময় দিলেন মুর্মু, থাকবেন রাহুল-মমতা