মোঃ ওয়াহেদুর রহমান, দিনাজপুর।।
সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) নবনিযুক্ত ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. মাসুদুল হাসান খানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা| হাবিপ্রবির ভিআইপি কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাইস-চ্যান্সেলর ফুলের তোড়া দিয়ে নবনিযুক্ত ট্রেজারারকে বরণ করে নেন এবং তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান| একই সাথে ভাইস-চ্যান্সেলর সাবেক ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম জাহাঙ্গীর কবির কে বিদায়ী সবংর্ধনা প্রদান করেন|
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভাইস-চ্যান্সেলর নবনিযুক্ত ট্রেজারারের উদ্দেশ্যে স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, আমি হাবিপ্রবি পরিবারের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক স্বাগত জানাচ্ছি| আপনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের সার্বিক তত্ত্বাবধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বiস করি| সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা, সততা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আরও সমৃদ্ধ ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে সক্ষম হব| ভিসি নবনিযুক্ত ট্রেজারার এর নেতৃত্বে হাবিপ্রবির উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রায় নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন| ভাইস-চ্যান্সেলর একই সাথে সাবেক ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম জাহাঙ্গীর কবির-কে তার দায়িত্ব পালনকালীন আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার জন্য গভীর ধন্যবাদ জানান| তিনি আরোও বলেন হাবিপ্রবির অগ্রযাত্রায় তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে| বিশেষ করে একনেক-এ অনুমোদিত ৫শ ৭৬ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকার হাবিপ্রবির উন্নয়ন প্রকল্পে (ডিপিপি) তার অক্লান্ত শ্রমের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন|

প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান স্বাগত বক্তব্যে নবনিযুক্ত ট্রেজারার প্রফেস ড. মো. মাসুদুল হাসান খানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান| একজন জুলাই যোদ্ধাকে হাবিপ্রবির ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে ধন্যবাদ জানান| এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে নবনিযুক্ত স্বাক্ষরট্রেজারার অত্যন্ত দক্ষতার স্বাক্ষর রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন| প্রো-ভিসি বিদায়ী ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম জাহাঙ্গীর কবির- কে তার দায়িত্ব পালনকালীন আর্থিক বিধি-বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে সবর্দা সতর্কভাবে কার্যাদি সম্পন্নের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান| আগামী দিনে তার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করেন|

অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. মাসুদুল হাসান খান তাকে হাবিপ্রবির ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন|পাশাপাশি আন্তরিক ও উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ভাইস-চ্যান্সেলর এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন| তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থেকে হাবিপ্রবির সার্বিক উন্নয়নে সকলের সহযোগিতায় নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন| বিদায়ী ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম জাহাঙ্গীর কবির তার বক্তব্যে দায়িত্বকালে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সকলের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন|
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনুষদীয় ডীনবৃন্দ, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, পরিচালকবৃন্দ ও হল সুপার, শাখা প্রধান ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন|
উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের শিক্ষক, প্রফেসর ড. মো. মাসুদুল হাসান খান রাষ্ট্রপতি ও হাবিপ্রবি’র চ্যান্সেলর এর আদেশক্রমে ৪ বছরের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপন নং ৩৭.০০.০০০০.০৭৬.১১.০০১.১৮-১৭০ তারিখ: ২৭ জুলাই ২০২৬ স্মারক মূলে গত ২৯ জুলাই ২০২৬ খ্রি. হাবিপ্রবির ট্রেজারার হিসেবে যোগদান করেছেন| তিনি ১৯৭৫ সালের ১০ এপ্রিল রাজশাহী জেলার রাজপাড়া উপজেলার তেরোখাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন| তার পিতার নাম মো. ইসমাইল হোসেন খান, মাতার নাম মিসেস মনোয়ারা বেগম| নবনিযুক্ত ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. মাসুদুল হাসান খান রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহী থেকে ১৯৯১ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও নিউ গর্ভমেন্ট ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী হতে ১৯৯৩ সালে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন| ১৯৯৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ থেকে বিএসসি (অনার্স) ১ম শ্রেণিতে ২য় স্থান অর্জন করেন এবং ১৯৯৯ সালে একই বিভাগ থেকে মাস্টার্স ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান অর্জন করেন| পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন| কর্মজীবনে ২০০৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাভার-এ সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন| তিনি ২০০৫ সালে ১ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন| পরবর্তীতে তিনি একই বিভাগে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন| তার সুপারভিশনে ১জন পিএইচডি, ২জন এমফিল এবং ১৬ জন শিক্ষার্থী মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন| বর্তমানে তিনি ১ জন এমফিল শিক্ষার্থীর সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন| দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য জার্নালে তার ২৮টি গবেষণা প্রকাশনা প্রকাশিত হয়েছে|

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *