আগামী মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচন। শুক্রবার ভোটগণনা। শুভেন্দু জানান, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া মিটলেই ‘মিথ্যা প্রচারের’ অভিযোগে সরকার কী পদক্ষেপ করবে, তা ঘোষণা করা হবে।আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাঁচ বছর আগে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নন্দীগ্রামে গিয়ে পা ভাঙা নিয়ে ‘মিথ্যা দাবি’ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! শনিবার ফের এক বার এই অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে ঘোষণা করে দিলেন, ‘মিথ্যা প্রচারের’ জন্য তদন্তও শুরু করবে রাজ্য সরকার। উপনির্বাচন মিটলেই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানানো হবে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটেের প্রচারে নন্দীগ্রামে গিয়ে আহত হন মমতা। সে বার পায়ে প্লাস্টার নিয়ে ভোটের প্রচার করেছিলেন তিনি। তৃণমূল স্লোগান তুলেছিল, ‘ভাঙা পায়ে খেলা হবে’। সে দিন দুর্ঘটনার পর পরই ‘চক্রান্তের’ অভিযোগ তুলেছিলেন মমতার। দাবি করেছিলেন, ৪-৫ জন মিলে ঠেলে দিয়েছেন। পরে হুইল চেয়ারে বসে নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে কারও নাম না-করে মমতা বলেছিলেন, “ভোটের সময় তুই আমার পা জখম করিয়েছিস। আমি চেপে গেছি ভদ্রতা করে। আজও আমায় পা ভাঙা নিয়ে হুইলচেয়ারে বসে মিটিং করতে হচ্ছে। তোমার নির্দেশ ছাড়া এ সব হতে পারে না।’’ ওই বারের ভোটে শুভেন্দুর কাছে নন্দীগ্রামে পরাস্ত হয়েছিলেন মমতা। বস্তুত, মমতার ওই মন্তব্য নিয়ে ২০২১ সালের প্রচার পর্ব থেকেই সরব হয়েছিল বিজেপি। পদ্মশিবির সে সময়ে একাধিক বার অভিযোগ করেছিল, চক্রান্ত করে পায়ে আঘাতের কথা বলে নন্দীগ্রামবাসীকে অপমান করছেন মমতা। এ বার সেই ঘটনা নিয়ে পূর্বসূরির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুললেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন থেকে হাসপাতালের নথিপত্র দেখিয়ে দাবি করলেন, ওই দিন মমতার পায়ে কোনও ‘ফ্র্যাকচার’ হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “২০২১ সালে পুরো নন্দীগ্রামকে মুখ্যমন্ত্রী (তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা) অপমান করেছিলেন— তার পা নাকি ভেঙে দেয়া হয়েছে।” এর পরেই বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের রেডিয়োডায়গনোসিস বিভাগের একটি নথি উঁচিয়ে দেখান তিনি। জানান, সেটি ২০২১ সালের ১১ মার্চের নথি। মমতার চিকিৎসা-সংক্রান্ত ওই নথি দেখিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, ওই নথিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে— ‘ফ্র্যাকচারের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি’। আগামী মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচন রয়েছে। শুক্রবার ভোটগণনা। বর্তমানে সেখানে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর রয়েছে। তাই এখনই এ বিষয়ে বিশদ মন্তব্য করতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি এটা নিয়ে বাড়তি কিছু বলছি না। সিআইডি তদন্ত করছে। নির্বাচনীবিধি উঠে গেলে এই মিথ্যা প্রচারের জন্য আমরা নতুন করে তদন্ত করব। সেটা আমি ৯ তারিখের পর জানাব।” বস্তুত, শুক্রবারই নন্দীগ্রামে ভোটের প্রচারে গিয়ে মমতার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামের নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে যে অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি, এ বার নবান্ন থেকে তারই নথি দেখান শুভেন্দু। একই সঙ্গে তদন্তেরও হুঁশিয়ারি দিলেন। বললেন, “৯ তারিখের পর অ্যাকশন হবে। অভিযোগ করলে যেমন তদন্ত হয়, মিথ্যা অভিযোগ করলেও ব্যবস্থা নেয়া যায়।” এ দিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্যবাসীর জন্য রেশন-উপহারও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, এ বারের দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে অর্ধেক মূল্যে ময়দা, চিনি এবং সুজি দেবে রাজ্য সরকার। পূর্বতন সরকারের চেয়েও বেশি ভর্তুকি দেয়া হবে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আগের সরকারের আমলে প্রায় ৫০ লক্ষ পরিবারকে পুজোর সময়ে এই সুবিধা দেয়া হত। বর্তমান সরকারের আমলে সুবিধা পাবে প্রায় ২ কোটি পরিবার। ময়দা এবং চিনির ক্ষেত্রে দরপত্রের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওই ২ কোটি পরিবার ১৯ টাকায় এক কেজি ময়দা পাবে। বাকি ১৯ টাকা ভর্তুকি রাজ্য সরকার দেবে। একই সঙ্গে প্রতি কেজি চিনিও পাওয়া যাবে ৩০ টাকায়। বাকি ৩০ টাকা ভর্তুকি দেবে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে ৫০০ গ্রাম করে সুজিও দেয়া হবে। সেটিও দরপত্রের প্রক্রিয়া এখনও চলছে। সেটিও পুজোর সপ্তাহেই দিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। Post Views: 25 Post navigation ‘বাঁচার ইচ্ছে নেই’, ৪৩তলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিলেন তরুণ! মাটিতে পড়ে দু’টুকরো হল দেহ, ভয়াবহ ভিডিয়ো প্রকাশ্যে