পদ্মসম্মান প্রাপ্তির ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছিল, হুইলচেয়ারে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গায়িকাকে। অনুরাগীদের মনে পড়ে যায় দু’বছর আগের ঘটনা। যেখানে অলকা নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি বিশেষ রোগে আক্রান্ত হয়ে শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন।

বিনোদন ডেস্ক :

পদ্মসম্মানে ভূষিত সঙ্গীতশিল্পী অলকা যাজ্ঞিক। কিন্তু তার পর প্রকাশিত একটি ভিডিয়ো অনুরাগীদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছিল। ছাপিয়ে গিয়েছিল পদ্মসম্মানের সুখবরকেও। গায়িকার স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ষাটোর্ধ্ব অলকা নিজের স্বাস্থ্যের কারণেই এত দিন জনসমক্ষে আসেননি। এমন জনপ্রিয়, সুকণ্ঠী গায়িকা শারীরিক ভাবে ভেঙে পড়তেই তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তার মনেও। তাই ক্যামেরার সামনে আসার ইচ্ছে চলে গিয়েছিল তার। প্রশ্ন উঠছে, কী হয়েছিল কণ্ঠশিল্পীর? পাশাপাশি, বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যের অবনতিকে রোধ করা যায় কী ভাবে, তা-ও জানতে চাইছেন অনুরাগীরা।আনন্দবাজার ডট কম

পদ্মসম্মান প্রাপ্তির অনুষ্ঠানের সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছিল, হুইলচেয়ারে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গায়িকাকে। অনুরাগীদের মনে পড়ে যায় দু’বছর আগের ঘটনা। যেখানে অলকা নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি বিশেষ রোগে আক্রান্ত হয়ে শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন। যদিও পদ্মসম্মানের অনুষ্ঠানে তিনি ক্লান্ত বোধ করছিলেন বলে হুইলচেয়ারে বসেছিলেন বলে জানান নিজেই। তবে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন বিবৃতিতে।

অলকা ২০২৪ সালে জানিয়েছিলেন, তিনি এক বিরল ধরনের শ্রবণজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ভাইরাস সংক্রমণের পরে হঠাৎ করেই তার শ্রবণশক্তি কমে যায়। এই সমস্যাকে ‘সেন্সরিনিউরাল হিয়ারিং লস’ বলা হয়। এতে কানের ভিতরের অংশ বা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে শব্দ শোনা এবং বোঝার ক্ষেত্রে অসুবিধা তৈরি হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে কানে একনাগাড়ে ‘ভোঁ’ শব্দ শোনা যেতে পারে, কোলাহলের মধ্যে কথা আলাদা করে বুঝতে অসুবিধা হতে পারে। আর যখনই শরীরের একটি ইন্দ্রিয় কর্মক্ষমতা হারায়, সামগ্রিক ভাবেই স্বাস্থ্যে তার প্রভাব পড়ে।

এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে যে নানা পরিবর্তন দেখা দেয়, সেগুলিকে আটকানো যায় কী ভাবে? চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়লে পেশির শক্তি, সহনশীলতা, ভারসাম্য এবং চলাফেরার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে পারে। ফলে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, হাঁটা বা বসে থাকার পরে অনেকেই দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। অনেকের ক্ষেত্রে হাঁটার সময়ে অন্যের সাহায্য প্রয়োজন হয়। এই কারণেই লাঠি, ওয়াকার বা হুইলচেয়ারের মতো সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করতে হতে পারে। এগুলিকে দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে দেখার কারণ নেই। বরং এগুলি নিরাপদে চলাফেরা এবং স্বনির্ভর জীবনযাপনে সাহায্য করে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরকে সক্রিয় রাখতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন—

১. নিয়মিত হাঁটা এবং পেশির শক্তি ও ভারসাম্য বাড়ানোর ব্যায়াম করা।

২. পর্যাপ্ত প্রোটিন, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।

t

৩. নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং চোখ ও কান পরীক্ষা করানো।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

৫. প্রয়োজন হলে সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করতে দ্বিধা না করা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *